দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দিতে হবে -শিবির সভাপতি


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, দেশের চলমান সংকট ও অশান্তির মূল কারণ নীতি ও আদর্শহীন নেতৃত্ব। যারা দেশের সমস্যা সমাধান ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এরাই এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করছে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া হবে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দিতে হবে। তিনি আজ রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের ২০১৮ সেশনের প্রথম সাধারন অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিন, ড. রেজাউল করিম, ডা: ফখরুদ্দীন মানিক, আব্দুল জব্বারসহ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের নব নির্বাচিত ও মনোনিত সদস্যরা। শিবির সভাপতি বলেন, দেশে এখন চরম রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে। অবৈধ ভাবে ক্ষমতা এসে দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকার দেশের জনগণের ওপর চেপে বসে আছে। সরকারের অদক্ষতা ও নীতিহীনতার কারণেই দেশের মানুষ আজ দ্বিধা বিভক্ত। সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই। মাদক, অপসংস্কৃতি এবং অপকর্মে সরকারে মদদের কারণে দেশের ছাত্র ও যুবসমাজের বিরাট অংশ আজ ধ্বংসের পথে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে সকল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে ধবংসের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঙ্গে বরাবরই সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ, দলীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা দিবালোকের মত স্পষ্টত হয়েছে। যে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আত্বস্বীকৃত দূর্নীতিবাজ ও ঘুষ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান করেন সেই সরকার দ্বারা শিক্ষার কি হাল হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। শিক্ষার মূল কারিগর সম্মানিত শিক্ষকদের যে ভাবে অবহেলা ও বঞ্চিত করা হচ্ছে তাতে শিক্ষায় বিরুপ প্রভাব পড়বে তাতে সন্দেহ নেই। ক্যাম্পাস গুলোতে ছাত্রলীগের তান্ডব, মাদক, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও ভিন্ন মতের ছাত্রদেরকে বিতাড়ণ অব্যাহত আছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বিচারে জুলুম নির্যাতন ও অবিচার করা হচ্ছে। সার্বিক অপশাসনে জাতি আজ চরম ভাবে হতাশ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এখনি এই অবস্থার ইতি টানতে হবে। অবিলম্বে সরকারকে জাতি বিনাশী প্রশ্নফাঁস বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে মাদক, অস্ত্রবাজী, সন্ত্রাস বন্ধ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। বন্যা দূর্গত ও শীতার্তদের সহায়তার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ নিজ দেশে ফিরে নিয়ে পুণর্বাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিবিরের কার্যকরী পরিষদের উদ্দেশ্য বলেন, আগামী দিন গুলো দেশ ও জাতির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ অবস্থায় ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় আরও বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। জনগণের অধিকার আদায় ও প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগের মানষিকতা নিয়ে ময়দানে থাকতে হবে। প্রতিটি ছাত্রের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শের বাণী পৌছে দেয়ার কাজ আরো গতিশীল করতে হবে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও যোগ্যতা ও নৈতিকতা ভিত্তিতে জাতির কাঙ্খিত নেতৃত্ব তৈরীর কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।